রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
মহেশখালীতে সারের সব ডিলার এমপি আলমগীর ফরিদ ‘বিএনপি পন্থী’, তৃণমূলজুড়ে চরম অসন্তোষ উখিয়ার সোনাইছড়িতে ছুরিকাঘাতে যুবক আহত শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হারের পর ইউনাইটেড কর্তাদের একহাত নিলেন মার্টিনেজ কক্সবাজার রেল স্টেশনে আরও একটি রেল যুক্ত হচ্ছে: ২৬ অক্টোবর থেকে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস খুরুলিয়ায় সিএনজিতে মিলল ৩ লক্ষ পিস ইয়াবা ইনানী সৈকতে নিজ উদ্যোগে সড়ক নির্মাণ: পর্যটক ও যানবাহন চলাচলে স্বস্তি  আর্জেন্টিনার ক্যাম্পে যোগ দিলেন মেসি বিয়েতে মত ছিল না জুহি চাওলার, কী করেছিলেন নায়িকার হবু শাশুড়ি টেকনাফে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ২

মহেশখালীতে সারের সব ডিলার এমপি আলমগীর ফরিদ ‘বিএনপি পন্থী’, তৃণমূলজুড়ে চরম অসন্তোষ

জিকির উল্লাহ জিকু :

​কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় সরকারি সারের নতুন ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। মোট ৪৮টি আবেদনের মধ্যে চূড়ান্তভাবে মনোনীত ৯ জন ডিলারের সকলেই স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের অনুসারী বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা উপেক্ষা করে ‘দলীয় প্রভাব’, ‘স্বজনপ্রীতি’ এবং ‘লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেনে’র মাধ্যমে এ বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি তৃণমূল বিএনপি ও বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের।

এমনকি কাগজে-কলমে দোকান না থাকা এবং এলাকা-বহির্ভূত প্রবাসীর স্ত্রীকেও ডিলারশিপ দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ১৭ বছর বিরোধী দলে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করা ত্যাগীদের বঞ্চিত করে সংসদ সদস্যের বলয়পুষ্টদের হাতে সারের মতো জরুরি ও স্পর্শকাতর পণ্যের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে সাধারণ কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

​উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত এবং জেলা কমিটির সুপারিশক্রমে প্রস্তুত করা তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা অঞ্চলে বিএনপি সমর্থিত বা দলটির সাথে ঘনিষ্টভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের নামই সারের ডিলার হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিলারদের রাজনৈতিক পরিচয় :

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা অঞ্চলে বিএনপি সমর্থিত বা দলটির সাথে ঘনিষ্ট ব্যক্তিদের নাম সারের ডিলার হিসেবে অনুমোদিত বা সুপারিশ করা হয়েছে।

উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত ও জেলা কমিটির সুপারিশক্রম অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত তালিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে।

কুতুবজোম ইউনিয়ন: ঘটিভাঙ্গার আকবর এন্টারপ্রাইজের মালিক ডিলার আলী আকবর। আকবর আলমগীর ফরিদ এমপি গ্রুপ বিএনপির কুতুবজুম ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক।

বড়মহেশখালী ইউনিয়ন: মেসার্স আনোয়ারা ট্রেডার্স মালিক ডিলার মুক্তার আহমদ যুবদলের প্রভাবশালী সদস্য এবং এমপি আলমগীর ফরিদ এর ডান হাত হিসেবে পরিচিত।

হোয়ানক ইউনিয়ন: মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের মালিক ডিলার মো. আসাদুল্লাহ। মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে যুবদলের সদস্য। তিনিও এমপি গ্রুপের রাজনীতির সক্রিয় নেতা।

কালারমারছড়া ইউনিয়ন: মিজান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ডিলার মিজানুর রহমান। স্থানীয় সুত্র জানান, এমপি গ্রুপের কালারমারছড়া ইউনিয়ন যুদলের আহবায়ক। জানতে চাইলে মিজান বলেন, তিনি কোনো গ্রুপের নয়, তিনি শুধু বিএনপি করেন। স্থানীয় বিএনপি সুত্র নিশ্চিত করেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে এমপি আলমগীর ফরিদ রাজনীতির সাথে যুক্ত।

মাতারবাড়ী ইউনিয়ন: মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজের মালিক ডিলার নুরুল আলম। তিনি মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক।

​ধলঘাটা ইউনিয়ন: মেসার্স আল্লাহর দান এন্টারপ্রাইজের মালিক ডিলার মোহছেন হাসান রিয়াদ। তিনি ইউনিয়ন ছাত্র দলের সভাপতি। তিনিও এমপি গ্রুপের রাজনীতির সাথে জড়িত।

শাপলাপুর ইউনিয়ন: শহীদ এন্টারপ্রাইজের মালিক  ডিলার শহীদুল ইসলাম।এলাকায় বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত নন। তবে তিনি বিশেষভাবে এমপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং যুদলের সদস্য।

​ছোটমহেশখালী ইউনিয়ন: ট্রেডার্সের মালিক গোলাম মোস্তফা।যুবদলের সদস্য। তিনিও একই গ্রুপের রাজনীতি করেন।

মহেশখালী পৌরসভা: মেসার্স শিহাব এন্টারপ্রাইজ মালিক মিসেস কুলসুম আকতার,  তার স্বামী প্রবাসী। তিনি থাকেন কক্সবাজারে। শিহাব এন্টারপ্রাইজ নামে পৌরসভায় দোকান নাই।

বিষের ডিলার দিলেই হতো: ক্ষোভে ফুঁসছে তৃণমূল বিএনপি

​দীর্ঘদিন ধরে মহেশখালী উপজেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত—একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এবং অন্য পক্ষে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক। নতুন এই ডিলার তালিকায় কেবল একটি বলয়ের অনুসারীদের স্থান দেওয়ায় অপর পক্ষের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

​মহেশখালী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন রতন ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন:

​“আমরা যারা সতের বছর দলের দুর্দিনে মাঠে ছিলাম, তাদের জন্য সারের ডিলার নয়, বিষের ডিলার দিলে হবে। আর অবমূল্যায়ন হতে হবে না।”

​নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, “সারের ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের ব্যাপক অভিযোগ পাচ্ছি। দলের ত্যাগী নেতাকর্মী ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।”

ঘাটে ঘাটে টাকা খরচ:

স্বামী বিদেশ আর আপনিও থাকেন এলাকার বাইরে ডিলার কীভাবে চালাবেন ফোনে জানতে চাইলে শিহাব এন্টারপ্রাইজের মালিক মিসেস কুলসুম আকতার বলেন, আমি ডিলার কর্মচারী আর ভাইদের দিয়ে চালাবো। কিন্তু নেপথ্যে বড় কারণ জানাযায়, বড় মহেশখালীর জাগিরা ঘোনার বাসিন্দা তার মেয়ের জামাই সাবেক সার ডিলার ছিলেন সবুজ। মুলত তার জন্যই কৌশলে ডিলার নেন। এবং এই ডিলার পেতে তাকে ঘাটে ঘাটে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয় বলে জানান। কোথায় কোথায় টাকা খরচ গেছে তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুবজোমের বাসিন্দা সাবেক ডিলার বলেন, যারা টাকা খরচ করতে পারছে তারাই ডিলার নিয়োগ পেয়েছে। এবিষয়ে সারের ডিলার পাওয়া অনেকর সাথে কথা বললে তারা বলেন, আবেদন করেছি। নিয়মমতো ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন তারা। কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়নি।

মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, এবারের সারের ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি অভিযোগ পাচ্ছি, তাছড়া তৃণমূল ত্যাগী বিএনপি ও প্রকৃত অনেক ব্যবসায়ীরা ডিলার পাননি।

জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা কৃষি অফিসার ( সদ্য সাবেক)  আব্দুল গফ্ফার বলেন, জেলা থেকে প্রতিবেদন চাওয়ার পর উপজেলা থেকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। জেলা থেকে মিনিস্ট্রিতে পাঠানো হয় ওখানেই চূড়ান্ত হয়। এখানে আমাদের হাত নেই।

ঘাটে ঘাটে ডিলারের টাকা খরচের বিষয়ে প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর দেননি এড়িয়ে যান।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, মাঠপর্যায়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা যে সুপারিশ করেছে, সভাপতি হিসেবে আমি শুধু স্বাক্ষর করেছি। এর বাইরে লেনদেন বা অন্য কোনো বিষয় আমার জানা নেই।”

যাছাই বাছাই কমিটিতে যারা ছিলেন:

মহেশখালী উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদস্য সচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তব বায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)  ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।

ভয়েস/ জেইউ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

​

 

 

​

 

 

 

 

 

​

​

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION